এক টনের ইনটেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ‘সুপারসেভার’ ইনভার্না এসি

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া কেনা চায়; আর এই প্রশান্তি কিন্তু কোন বিলাসিতা নয়। একটা সময় এসির মত ইলেকট্রনিক যন্ত্র হাতের নাগালের বাইরে থাকলেও, দেশীয় ওয়ালটনের মত কোম্পানির কল্যাণে ভালো মান এবং ক্ষমতার দারুন সব এসি সাধারণ মানুষেরও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে। এসব এসি কেবল দামের দিক দিয়েই যে সাস্রয় তা কিন্তু নয়! এসব এসি বিদ্যুৎ খরচের দিক দিয়েও দেশের দেশের বাজারের অন্যসব এসির চাইতে সাশ্রয়ী। এই লেখায় আমরা আলোচনা করব ওয়ালটনের ইনভার্না মডেলের নতুন ১ টন ক্যাপাসিটির একটি সুপারসেভার স্প্লিট এসি নিয়ে। প্রথমেই জেনে রাখুন আপনার ঘর বা স্পেস যদি ১৩০ স্কয়ার ফিটের কম হয়, তবে আপনি এই ১টন ক্যাপাসিটির এসিটি ব্যবহার করতে পারবেন।

সুপারসেভার প্রযুক্তিতে সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ!

ইনভার্না মডেলের ৪৯৯০০ টাকার এই এসিটি অত্যন্ত পরিমানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। ইনটেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি হওয়ার ফলে এটি অন্যান্য নন-ইনভার্টার তো বটেই, বাজারে প্রচলিত অনেক ইনভার্টার এসির থেকে বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এসিটি আমাদের দেশের বিদ্যুৎ বাবস্থাকে বিবেচনা করে বিশেষভাবে বানানো, যার ফলে যেখানে আমাদের দেশে ভোল্টেজ আপ- ডাউন জায়গায় একটি প্রচলিত সমস্যা, সেখানে এই এসিটি ১৪০ এর মত লো ভোল্ট থেকে ২৬৪ এর মত ওভার ভোল্টেজেও কাজ করতে পারবে সমান ভাবে! সুপাসসেভার এসি বলে এই এসিটিতে পাবেন একটি বিশেষ ইকোনমি মোড; যার ফলে রিমোট এর ‘ইকো’ বাটন প্রেস করার মধ্য দিয়ে এসিটির ইকোনমি মোড কার্যকর করলে এটি বাজারের যেকোনো নন-ইনভার্টার এসির চাইতে ৭০% বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়ে যাবে।

কেনো ইনভার্টার এসি?

এসিটিতে পাওয়া যাবে রোটারি ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসর। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসির থেকেও অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের সাপেক্ষে আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটির বিদ্যুৎ প্রবাহ সেই হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং এতে করে বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে! এই জন্য এসি কেনার ক্ষেত্রে সবসময় চেষ্টা করা উচিৎ ইনভার্টার প্রযুক্তির দিকেই যাওয়া।

বাতাসকে বিশুদ্ধ করবে এসিটির ডুয়াল ডিফেন্ডার প্রযুক্তি!

ওয়ালটন বাংলাদেশের অন্যতম একটি কোম্পানি যারা তাদের নিত্যনতুন এসিতে ডুয়াল ডিফেন্ডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। ইনভার্না মডেলের এই এসিতেও ওয়ালটন ডুয়াল ডিফেন্ডার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে! এসিটিতে বাতাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য এই ডুয়াল ডিফেন্ডার প্রযুক্তি পাওয়া যাবে, যাতে পাওয়া যাবে পরপর দুটি দারুন কার্যকরী সুবিধা; একটি আইওনাইজার এবং আরেকটি হচ্ছে অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার। আইওনাইজার সুবিধা সম্পর্কে আমরা অনেকেই ইতিমধ্যে জানি; এটি এসির মাধ্যমে বাতাসে নেগেটিভ আয়ন উন্মুক্ত করে দিয়ে বাতাসের খারাপ কিছু উপাদানকে বিনষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে এর পাশাপাশি এসিটিতে থাকা অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার এর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাতাসকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। আর এই অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার ০.৩ মাইক্রন আকৃতি পর্যন্ত ব্যক্টেরিয়া, ভাইরাস অনুকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। কেবল ভাইরাস, ব্যাক্টটেরিয়া নয় এটি বাতাসের ভেতর থাকা অ্যালার্জি উদবেগকারি অনেক উপাদানও ধ্বংস করে ফেলে।

এসিটির সাইলেন্ট অপারেশন

ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিটিতে ব্রাসলেস ডিসি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এটি খুবই স্মুথ এবং নিঃশব্দের সাথে কাজ করতে সক্ষম। এতে করে রাতে ঘুমানোর সময় এই এসি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কোন যান্ত্রিক শব্দ আসবে না, যা আপনার ঘুমকে বিঘ্নিত করতে পারে। এসিটি সবসময়য় তার নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করে যাবে একদম নিঃশব্দে তাও পূর্ণ দক্ষতার সাথে। আর ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফলে কম্প্রেসর এর নিয়ন্ত্রণ এই এসিটিতে আরও অনেক বেশি পরিকল্পিত, যা এসিটিকে অন্যসব ইনভার্টার এসির থেকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করেছে।

এভাপরেটরের ময়লা পরিস্কার হবে ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তিতে

এসিটির অন্যতম একটি কার্যকরী সংযোজন হচ্ছে এসিটির ‘ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি’। বেশিরভাগ এসির ইনডোর ইউনিট এর ‘এভাপরেটরে’ ময়লা জমে। এখানে ময়লা জমতে জমতে নানারকম ব্যাকটেরিয়া তথা মাইক্রোঅর্গানিজম’ও জন্ম নেয়। এমনকি সামনের এই অংশে ফাঙ্গাসও জমে! এই জন্য সবাই নিয়মিত এসির ইনডোর ইউনিট খুলে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে এই ইনভার্না এসিতে থাকা ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি এসিটির রিমোট কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে চালু করলে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসিটি নিজে থেকেই এই এভাপরেটর’কে পরিষ্কার করার কাজ করবে; একে শুষ্ক এবং ফাঙ্গাসমুক্ত রাখবে।

এসিটির COP মান

এসির কার্যক্ষমতা কতটা ভালো এবং সেটি বাতাসে ঠিক কি পরিমাণে তাপ ছড়াচ্ছে তা নিরূপণের অনেকগুলো বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে এসির COP মান ( কো-ইফিসিয়েন্ট অফ পাওয়ার)। COP রেটিং যত বেশি হবে সেই এসির পারফর্মেন্স তত বেশি ধরা হবে, COP রেটিং পয়েন্ট মূলত ১.৫ থেকে ৪ এর ভেতর হয়। মূলত COP রেটিং ৩ এর ওপর হলে সেই এসির কার্যক্ষমতা তুলনামূলক ভালো ধরা হয়। আর এই এসির COP রেটিং পয়েন্ট ৩.৭।

ব্যবহৃত হয়েছে পরিবেশবান্ধব আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট

আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের জন্য আর৪১০এ হল একটি মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত গ্যাস। আগে আর২২ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই মারাত্তক।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স এপ্লায়েন্স, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি নিয়ামক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

পরিশেষে

এই ইনভার্না ১টন এসিতে পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার রেঞ্জ । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন। ইনভার্না এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। আর এর রিমোট থেকে টার্বো মোডটি চালু করলে প্রচণ্ড গরমেও ঘর মুহূর্তেই শীতল হয়ে যাবে।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। অথবা কিনতে এবং নানারকম তথ্য দেখে আসতে পারেন ওয়ালটন ইপ্লাজা থেকে। তবে যেহেতু সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতির জন্য ওয়ালটন প্লাজা অনেক সময়ই বন্ধ থাকছে, সেই হিসেবে এসিটি কিনতে পারেন ওয়ালটন ইপ্লাজা থেকে। তাছাড়াও এসিটি কিনতে এমনকি দেখতে চলে যেতে পারেন যেকোনো ডিস্ট্রিবিউটর কিংবা ডিলার শোরুমে। এসিটিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।