সামাজিক মাধ্যমের আড়ালে সামাজিক ব্যাধি টিকটক

প্রায় ১.৫ বিলিয়নেরও বেশি ডাউনলোড হয়ে বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমের জগতে সবার আকর্ষণের অন্যতম একটি কেন্দ্রে রয়েছে চীনা মাইক্রো ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। অ্যাপটি মূলত চীনে তৈরি একারনেই অনেক দেশের চোখে এই অ্যাপটিকে  ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই তথ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনেক বিতর্ক তো আগে থেকে ছিলই।

 

ফেসবুক থেকে শুরু করে ইন্সটাগ্রাম এর মত আরো সামাজিক মাধ্যম, তৈরির পর থেকেই এগুলো তাদের ব্যবহারকারীদের নানাভাবে নানা কাজে প্রভাবিত করে আসছে। ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের প্রভাব বিরাজের পর থেকে মানুষের ভেতর মাধ্যমটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভেতর নিজেকে  উপস্থাপন করার কৌতূহলকে উত্তেজিত করে। খুব স্বাভাবিক মনে হলেও, মাধ্যমটি প্রতিটি ব্যবহারকারীদের ভেতর একটি অভ্যাসের জন্ম করে দিয়েছিলো, একটি বিশাল শ্রেণির ভেতর নিজেদেরকে উজ্জ্বলতম করে তোলা, যা এখন আরো প্রখর হচ্ছে। অবশ্যই তারা যে সুযোগটি করে দিয়েছে তা সামাজিকভাবে অনেক দিক দিয়ে প্রশংসনীয়, তবে এই সুযোগের খারাপ ফলগুলো আমরা কম দেখছিনা।

সামাজিক মাধ্যম তাঁর ব্যবহারকারীদের ভেতর একটি জনগোষ্ঠীর ভেতর ভিজুয়াল ভাবে নিজেদেরকে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করে দেয়। এসবের কারনে সবার মাঝে নিজেকে ফুটে তোলা যেন হয়ে গিয়েছে একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সবাই মানুষের মাঝে নিজেদেরকে ফুঁটে তোলার জন্য স্বাভাবিক জীবনযাপনকে অনেকে জীবনের কষ্ট মনে করছে, সবাই হতে চাচ্ছে অনন্য। তথ্যের অবাধ বিচরণের ফলে যতটা না মানুষের সুবিধা হচ্ছে, বিরুপ প্রভাবগুলোর কারনেমানব সমাজের সুস্থ যাপন হচ্ছে খুব খারাপভাবে বিঘ্নিত।

কিছু সামাজিক মাধ্যমগুলো এসে সার্বিক সামাজিক মাধ্যমের যে বিষয়গুলো নেতিবাচক হিসেবে ধরা হত, সেগুলোকেই ক্রিয়া-কেন্দ্র করে তাদের পুরো প্ল্যাটফর্মকে সাজিয়ে ফেলে। যেখানে এক প্রকারের মানুষ যারা প্রবাহের উপরে থাকা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তারা এখানে সুযোগ নিয়ে নেয়। টিকটকের মত এমন সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ভালো কন্টেন্ট তৈরি করতে চাইলেও বহুল সংখ্যকে থাকা এসব বিকৃত কন্টেন্ট দর্শকের আকর্ষণ কারতে সক্ষম হয় খুবই সহজে। বিশেষ করে সুরসুরি দেয়া এসব কন্টেন্ট এর মূল শিকার হয় উঠতি বয়সের তরুন তরুণীরা। তারা বিকৃত উপায়ে উপস্থাপিত নানা মুখ দেখে খুবই সহজে নিজেদের সবার সামনে আনতে তাদের মতই নিজেরাও সেরকম কন্টেন্ট তৈরি করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে যেসব ক্রিয়েটররা তাদের ভালো কন্টেন্ট সেই প্লাটফর্মে দিয়েছিল, তাদের দর্শকরা এসব কনটেন্টও আকৃষ্ট হয়ে পরে।

এদিকে টিকটকের মত সামাজিক মাধ্যম  কোনরকম সেন্সরশিপ ছাড়াই তাদের বেশি ফলোয়ারধারী অনেকের ভিডিও কন্টেন্ট খুবই সহজেই উন্মুক্ত ভাবে সবার জন্য তাদের প্লাটফর্মে প্রকাশ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। যা অনেক বড় সামাজিক সংকটও বয়ে আনতে পারে। কেবল মাত্র যখন সেগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে পরে এবং সমালোচনা শুরু হয়, ঠিক তখন গিয়ে তারা সেসব ডিলিট করে দেয়।