মাইক্রোসফট যে স্বার্থে উইন্ডোজ পাইরেসির সমর্থন করে!

সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ পাইরেসি করে মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি ব্যবহার করছে, তারা কেনইবা কিছু বলছে না!
মাইক্রোসফট যে স্বার্থে উইন্ডোজ পাইরেসির সমর্থন করে!

জীবনে প্রথম ল্যাপ্টপ অথবা কম্পিউটার চালানোর সময় আপনি তাতে যে অপারেটিং সিস্টেমটি দেখেছিলেন , সেটি হয়ত ছিল মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ।  উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ৭, উইন্ডোজ ৮ বা উইন্ডোজ ১০।  প্রশ্ন করে দেখুন নিজের মনে, আমরা আমাদের কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছি সেটি কি অফিসিয়ালি মাইক্রোসফট এর কাছ থেকে কিনেছি? মাইক্রোসফট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উইন্ডোজ ১০ হোম এডিশন এর দাম প্রায় ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি।  তবে আমরা ঠিকি দিব্যি বাজারের দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে সিডি কিনে এমনকি ফ্রি সিডি এনে সেই একই ‘উইন্ডোজ ১০ হোম এডিশন’ কেই ইন্সটল করে ব্যবহার করছি।  গুটিকয়েক মানুষ বলবেন আমরা টাকা দিয়ে কিনে চালাচ্ছি, আপনারা বড়লোক এবং এক্সসেপ্সনাল।  আর এক্সসেপ্সনাল ইজ নট এক্সাম্পল।

মাইক্রোসফট কেন তাদের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রোডাক্টটিকে পাইরেসি করার জন্য উন্মুক্ত করেদিল।  সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ পাইরেসি করে মাইক্রোসফট এর দুনিয়াজয়ী অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি ব্যবহার করছে, তারা  কেনইবা কিছু বলছে না।  তারা তো ইচ্ছা সকল পাইরেসি করা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার এর উইন্ডোজ ক্রপ করে, কম্পিউটারকে ব্যবহার অনুপযোগী করে ফেলতে পারতো বা পারে, তাইনা? আর এখানেই মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, মাইক্রোসফট নিজেরাই চায় তাদের এই অপারেটিং সিস্টেম পাইরেসি হোক।  অবাক হলেন? 

হ্যা সত্যি।  আমরা যখন আমাদের স্কুল এর কম্পিউটারে প্রথম হাত দিয়েছিলাম, সেখান থেকে আমাদের প্রথম উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর হাতেখরি হয়।  বলতে পারেন জাতীয় ফল কাঁঠালের মত আমরা জাতীয় অপারেটিং সিস্টেম মনে মনেই উইন্ডোজকেই ভেবে নেই ওই ছোট বেলাতেই।  তখন আমাদের ‘হাতেখরি কম্পিউটার’ বইয়েও থাকতো কিভাবে কম্পিউটার চালু করতে হয়, অফ করতে হয়।  আর সবকিছু ছিল কিন্তু উইন্ডোজ  অপারেটিং সিস্টেম এর নিয়ম কানুনই।  আর এভাবে বাসার কম্পিউটার বা ল্যাপটপেও উইন্ডোজ।  এভাবে দেখা গেলে আমরা বুঝতে পারব যে, আমদের জন্মের পর থেকে আমরা একা একাই কম্পিউটার চালাতে চালাতে উইন্ডোজ শিখে যাই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাউকে শেখাতে হয়।  আর একটি অপারেটিং সিস্টেমের মানুষের কাছে এরকম পরজায়ের জনপ্রিয় হতে প্রয়োজন ছিল বিপুল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার।

তবে অত টাকা দিয়ে কেনা লাগলে ছড়িয়ে পড়া তো সম্ভব হবেনা।  আর এই কারনে মাইক্রোসফট তাদের এই জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের ক্র্যাক যখন বের হয় তখন সেটির ছড়িয়ে পড়া দেখে বিস্মিত হয়ে, ভবিষ্যতে এর ভাল দিকের কথা চিন্তা করে আর এই পাইরেসিকে দমন করার জন্য সেভাবে কাজ করেনি।

মাইক্রোসফটের কাছে পাইরেসির ভালো দিক কি?

যখন কোন কম্পিউটার ইউজার ছোট বেলা থেকেই এই অপারেটিং সিস্টেমটির প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে।  তখন সে ভবিষ্যতে কম্পিউটার চালানোর ক্ষেত্রে আর অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম এর প্রতি আগ্রহ দেখাবে না।  এখন একজন ব্যাক্তি ছোট থেকে অবাধে উইন্ডোজ শিখে শিখে বড় হয়েছে, সে কেন অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম ইউজ করবে, আপনি ভেবে বলুন? আর মাইক্রোসফট এটিই চেয়েছিল। 

যখন মানুষ অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম এর প্রতি আগ্রহ দেখাবে না তখন উইন্ডোজ এর ডিমান্ড তথা চাহিদা বাড়বে।  যখন একজন আজন্ম উইন্ডোজ ইউজার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যাবে, তখন সে সেখানকার ফ্যাকাল্টি এর নিকট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেরই চাহিদা করবে।  আবার যখন সে কোন কোম্পানিতে কাজ করতে যাবে, সেখানেও সে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের চাহিদা করবে।  আর এখানে সেই বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি উইন্ডোজ এর এন্টারপ্রাইজ সংস্করন ব্যবহার করবে।  বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানি পাইরেসি করা উইন্ডোজ ব্যবহার করলে সেখানে তাদের অপর মাইক্রোসফট আইনি ঝামেলা আনতে পারে।  আর একারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন কোম্পানি টাকা দিয়ে উইন্ডোজ এর এন্টারপ্রাইজ সংস্করন ব্যবহার করবে।  এখান থেকেই মাইক্রোসফট এর আসল লাভ।  আর এর পরিপ্রেক্ষিতে মাইক্রোসফট তাদের আরও কিছু প্রোগ্রাম যেমন অফিস ৩৬৫ ইত্যাদিও বিক্রি বারাবে।

আর কোন প্রতিষ্ঠান কেন টাকা দিয়ে মাইক্রোসফট এরই অপারেটিং সিস্টেম বা সফটওয়্যার  কিনবে? তারা তো অ্যাপেলেরও কিনতে পারত? আর এখানেই পাইরেসির ভালো দিক দিয়ে মাইক্রোসফট উপকারিত হয়েছে।  কারন মানুষ মাইক্রোসফট এর অপারেটিং সিস্টেম বা প্রোগ্রাম ছাড়া অন্য কিছুতে অভ্যস্ত নয়।  তারা অন্য কিছু ব্যবহার করতেই পারবেনা।